অনুসরন করুন :
আল-কুরআন

আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯

আল কুরআন (আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯) ৩০. এগুলো (হজ্বের বিধান)। এ ছাড়া যে, আল্লাহ এবং পবিত্র (স্থান ও অনুষ্ঠান) সমূহের প্রতি সম্মান দেখাবে, তার প্রভ...

বিস্তারিত
আল-হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন

সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী রা. আব্বাদ ইবনু তামীম তৎপিতৃব্য আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...

বিস্তারিত
সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো

নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো। নিঃসন্দেহে এই সরকার একটি বিপ্লবোত্তর সরক...

বিস্তারিত

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি : ৬০ হাজার কোটি টাকার ঋণ

ছবি : সংগৃহীত

সংস্কার ৩০ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বহাল রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে নীতিগত (রেপো) সুদহার ১০ শতাংশেই রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে শিল্প, কৃষি এবং কুটির, ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (সিএমএসএমই) খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করে জানায়, গত প্রায় দুই বছরের কঠোর মুদ্রানীতির ফলে মূল্যস্ফীতি কমার ইতিবাচক লক্ষণ দেখা গেছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৭ শতাংশে উঠলেও ২০২৬ সালের মে মাসে তা ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে মূল্যস্ফীতি এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না পৌঁছানোয় নীতিগত সুদহার কমানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রকৃত বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন নীতিতে রেপো সুদহার ১০ শতাংশ, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়নে দেশের অর্থনীতি এখনও ভঙ্গুর পুনরুদ্ধারের পর্যায়ে রয়েছে। কম প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে ধীরগতি, কর্মসংস্থানের চাপ, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জ্বালানি ও সারের আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যাহত করে আমদানি ব্যয় ও ব্যয়জনিত মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বীকার করেছে, বর্তমান মূল্যস্ফীতির বড় অংশ অতিরিক্ত চাহিদার কারণে নয়; বরং সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজার ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। তাই শুধু সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং কাঠামোগত সংস্কারও প্রয়োজন।

মুদ্রানীতিতে আরও বলা হয়েছে, কঠোর আর্থিক নীতি, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা ও ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকির কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালের মে মাস শেষে ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও সরকারের ঋণ গ্রহণের চাপের কারণে ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ বিতরণে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ফলে উদ্বৃত্ত তারল্যের বড় অংশ উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের বদলে সরকারি সিকিউরিটিজে যাচ্ছে।

অর্থনীতিতে গতি আনতে ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ সহায়তার মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা আসবে ব্যাংক খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন খাতে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৈদেশিক খাতে বাজারভিত্তিক নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা বহাল থাকবে। এর মাধ্যমে রপ্তানির প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, প্রবাসী আয় উৎসাহিত করা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের সংস্কারেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নিরীক্ষা, উন্নত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, নতুন ঋণ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক হিসাবমান আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী এক্সপেকটেড ক্রেডিট লস (ইসিএল) পদ্ধতি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬ ও ডিপোজিট প্রোটেকশন আইন-২০২৬ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন এবং আমানতকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা হবে।

খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (ডামা) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া অর্থঋণ আদালত আইনের সংশোধনের মাধ্যমে ঋণ আদায়ের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে বাংলা কিউআর-কে দেশের সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট মান হিসেবে চালু করা হয়েছে। এতে সব ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একই কিউআর কোড ব্যবহার করে সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী লেনদেন সম্ভব হবে।

মুদ্রানীতিতে আরও বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে টাকার বিনিময় মূল্য কমেছে, আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান সক্ষমতার নিচে পরিচালিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আমদানিকারকদের ঋণ পরিশোধে সময় বাড়ানোর মতো কিছু নিয়ন্ত্রক সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন মুদ্রানীতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের লক্ষ্য অনুযায়ী প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকার চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, রাজস্ব নীতির সহায়তা, লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ কর্মসূচি এবং বিনিয়োগ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি সম্ভব। তবে জ্বালানি সংকট, ব্যয়জনিত মূল্যস্ফীতি, মূল্যস্ফীতি-সংক্রান্ত জনমানুষের প্রত্যাশা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং বৈদেশিক খাতের চাপ আগামী মাসগুলোতেও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে থাকবে।

সংস্কার/ইএমই

সম্পর্কিত খবর

স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকের ৪২৮তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র পরিচালনা পর্ষদের ৪২৮তম সভা গত ২৮ জুন ২০২৬ ঢাকায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বোর্ডরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান গুলজার আহমেদ। সভায় পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী, অশোক কুমার সাহা, ফিরোজুর রহমান, এস এ এমডি হোসেন,

আর্থিক প্রতারণা রোধে ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা

অনলাইনভিত্তিক আর্থিক প্রতারণা বাড়তে থাকায় গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের সব ফাইন্যান্স কোম্পানিকে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি, ডিজিটাল লেনদেনে সতর্কতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের জানাতে হবে যে, ব্যাংকিং

রুপার ভরি বেড়েছে ১৭৫ টাকা : নতুন দাম কার্যকর

দেশের বাজারে আবারও রুপার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) দাম বৃদ্ধির কারণে প্রতি ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার ২৭ জুন ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে

বিশ্বব্যাংকের ১১০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদন সচল রাখা, মানুষের জীবিকা রক্ষা এবং বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬ দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এই অর্থায়নের