অনুসরন করুন :
আল-কুরআন

আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯

আল কুরআন (আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯) ৩০. এগুলো (হজ্বের বিধান)। এ ছাড়া যে, আল্লাহ এবং পবিত্র (স্থান ও অনুষ্ঠান) সমূহের প্রতি সম্মান দেখাবে, তার প্রভ...

বিস্তারিত
আল-হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন

সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী রা. আব্বাদ ইবনু তামীম তৎপিতৃব্য আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...

বিস্তারিত
সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো

নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো। নিঃসন্দেহে এই সরকার একটি বিপ্লবোত্তর সরক...

বিস্তারিত

হৃদরোগে পেইসমেকারের গুরুত্ব

মানুষের হৃৎপিণ্ড একটাই। কিন্তু এর অসুখ আছে শত শত। আর এর প্রতিকারও হয় ভিন্ন ভিন্ন। হৃৎপিণ্ডের ভাল্ব, মাংসপেশি বা রক্তনালীর সম্বন্ধে আমরা শিক্ষিত সমাজের সবাই কমবেশী কিছু না কিছু জ্ঞান রাখি। কিন্তু হৃৎস্পন্দনের অসুখ সম্বন্ধে জনসাধারণের জ্ঞান সীমিত। আজ এমনই কতগুলো হৃৎস্পন্দনের অসুখ ও তার প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করব।

হৃৎস্পন্দনজনিত রোগগুলোকে প্রধানত দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়

১. ব্র্যাডিএ্যারিদমিয়াস বা ধীর গতির হৃৎস্পন্দন।

২. ট্যাকিএ্যারিদমিয়াস বা দ্রুত গতির হৃৎস্পন্দন।

ব্র্যাডিএ্যারিদমিয়ার মধ্যে আবার অনেক রোগ রয়েছে যার মধ্যে কমপ্লিট হার্ট ব্লক এবং সিক সাইনাস সিনড্রোম উলে­খযোগ্য। সব ধরনের ব্র্যাডিএ্যারিদমিয়া মোটামুটি একই রকম উপসর্গের সৃষ্টি করে, যেমনÑমাথা ঘুরানো, মাথা ঝিমঝিম করা, মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া, হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এই উপসর্গগুলো সাধারণত পরিশ্রম করার সময় বেশী হয়। যখন এই উপসর্গগুলো হয় তখন মুখ এবং হাত-পা ফ্যাকাশে দেখা যায়, শরীর ঘামতে থাকে ও ঠাণ্ডা হয়ে যায়, নাড়ির ধীর গতি থাকে এবং রক্তচাপ অনেক কমে যায়।

ব্র্যাডিএ্যারিদমিয়া রোগগুলো নির্ণয় করা হয় রোগের উপসর্গ, লক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে ইসিজি ও ২৪ ঘণ্টার হল্টার মনিটরিং অন্যতম। তা ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে আনুসাঙ্গিক অন্য ধরনের হৃদরোগ নির্ণয় করার জন্য বুকের এক্স-রে ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি করা হয়ে থাকে। যাদের পরিশ্রম করলে উপসর্গ দেখা দেয়, ইটিটি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

কোনো কোনো ব্র্যাডিএ্যারিদমিয়া আছে যারা সাধারণত কোনো উপসর্গ করে না এবং এগুলো নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সময় ধরা পরে। রোগীর যদি কোনো উপসর্গ না থাকে, তা হলে কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। কিন্তু তাকে সতর্ক থাকতে হবে; যখনই কোনো রকম অসুবিধা অনুভূত হবে তখনই একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। যে কোনো ধরনের ব্র্যাডিএ্যারিদমিয়া যদি উপসর্গের সৃষ্টি করে, বিশেষ করে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, তাহলে শরীরে পেইসমেকার বসাতে হবে। সাধারণত কমপ্লিট হার্ট ব্লক বা সিক সাইনাস সিনড্রোম রোগে এ ধরনের উপসর্গ বেশী করে থাকে।

এখন সবারই মনে প্রশ্ন আসবে এই পেইসমেকার জিনিসটা কি? পেইসমেকার হলো ছোট একটি ইলেট্রনিক যন্ত্র বিশেষ যা বুকের উপরিভাগের ডান অথবা বাম পাশে চামড়ার নিচে বসানো হয়। যারা ডান হাতে কাজ করেন তাদের বাম দিকে এবং যারা বাম হাতে কাজ করেন তাদের ডান দিকে লাগানো হয়ে থাকে। পেইসমেকার কয়েক প্রকার হয়ে থাকে।

১. সিঙ্গল চেম্বার, ২. ডুয়াল চেম্বার

পেইসমেকার থেকে বিশেষ তারের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠে সংযোগ দেয়া হয়। উপরোলি­খত প্রকারভেদে একটা থেকে তিনটা লিড সিস্টেমের প্রয়োজন হয়। রোগের প্রকারভেদে এক এক ধরনের পেইসমেকার লাগানো হয়ে থাকে।

পেইসমেকার ইমপ্ল্যানিন্টেশনের পর একজন রোগীকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। সেগুলো নিম্নরূপ :

১. যে পাশে পেইসমেকার বসানো হয় সেই পাশের হাত একদম কাঁধের উপর উঠাবে না।

২. ওই হাত দিয়ে ছয় মাস ভারী বস্তু বহন করবে না।

৩. ওই পাশের কানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করবে না।

৪. মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা টেলিভিশনের কাছে যাবে না।

৫. এমআরআই পরীক্ষা করা যাবে না।

৬. যে কোনো ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ার সময় ডাক্তারকে জানাতে হবে যে উনার শরীরে পেইসমেকার বসানো আছে।

৭. পেইসমেকার বসানোর দিন থেকে ১, , ৬ ও ১২ মাস পর হাসপাতালে এসে পেইসমেকার ঠিকভাবে কাজ করছে কি না পরীক্ষা করাতে হবে। তার পর বছরে একবার করে পরীক্ষা করাতে হবে। (লেখক: ডা: আব্দুল­াহ শাহরিয়ার, শিশু কার্ডিওলজি বিভাগ, হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।)

সম্পর্কিত খবর

তরুণদের মধ্যে বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক : স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পরামর্শ

বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, বিশেষ করে ৪০ বছরের কম বয়সি তরুণদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ১৫ শতাংশের বয়স ৪০ বছরের নিচে। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, স্থূলতা

গ্লোবাল ডায়াবেটিস নিয়ে নতুন উদ্বেগ : উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা এখন প্রকৃত অর্থেই বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকির বড় সতর্কবার্তা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) প্রকাশিত সর্বশেষ অ্যাটলাসে উঠে এসেছে, পৃথিবীর প্রতি ৯ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন এই রোগে ভুগছেন। ২০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর

হাসপাতালে ভেন্টিলেশন কাদের জন্য এতে কী জানা যায়

হঠাৎ হাসপাতালে কোনো রোগীকে ভেন্টিলেশনে নেওয়ার কথা জানলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিন্তু বাস্তবে ভেন্টিলেটর এমন একটি চিকিৎসা-সহায়ক যন্ত্র, যা বিপদে পড়া রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সহজ ভাষায় বোঝার জন্য বিষয়টি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হলো। ভেন্টিলেশন কী, কেন দিতে হয় এবং

কিডনি ঠিক আছে কিনা জানা যাবে ঘরেই করা সহজ পরীক্ষায়

আপনি কি জানেন আমাদের দেহের গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো কিডনী যা,দেখতে শান্ত,কথা না বলা এই দুই ছোট্ট অঙ্গ কিন্তু শরীরের নেপথ্যের নায়ক। কিডনি চুপচাপ নিজের কাজ করে যায়, আর সমস্যায় পড়লেও খুব একটা শব্দ করে না। তবুও শরীরের বর্জ্য ফেলা,পানি নিয়ন্ত্রণ,রক্তচাপ সামলানো সবকিছুরই বড় দায়িত্ব