অনুসরন করুন :
আল-কুরআন

আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯

আল কুরআন (আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯) ৩০. এগুলো (হজ্বের বিধান)। এ ছাড়া যে, আল্লাহ এবং পবিত্র (স্থান ও অনুষ্ঠান) সমূহের প্রতি সম্মান দেখাবে, তার প্রভ...

বিস্তারিত
আল-হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন

সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী রা. আব্বাদ ইবনু তামীম তৎপিতৃব্য আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...

বিস্তারিত
সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো

নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো। নিঃসন্দেহে এই সরকার একটি বিপ্লবোত্তর সরক...

বিস্তারিত

অপরাজেয় নেতৃত্বের অবসান : বেগম খালেদা জিয়ার ১০ রেকর্ড

ছবি : সংগৃহীত 

সংস্কার ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল ৬টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় নেতা। চার দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক জীবনে তিনি ক্ষমতার পালাবদল, কারাবরণ ও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে জনগণের রায় ও নির্বাচনী রাজনীতিতে তিনি ছিলেন প্রায় অপরাজেয়।

প্রয়াত এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় রয়েছে এমন কিছু বিরল রেকর্ড ও সিদ্ধান্ত, যা তাকে সমসাময়িক রাজনীতিবিদদের থেকে আলাদা উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তার নির্বাচনী সাফল্য এবং রাষ্ট্র সংস্কারে নেওয়া যুগান্তকারী সিদ্ধান্তগুলো আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ। নিচে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল ১০টি রেকর্ড তুলে ধরা হলো:

নির্বাচনে কখনো পরাজিত হন নি। বেগম খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক জীবনে অংশ নেওয়া কোনো নির্বাচনে পরাজিত হন নি। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি ৫টি সাধারণ নির্বাচনে (১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনসহ) অংশ নিয়ে মোট ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং সবকটিতেই জয় লাভ করেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বেশি ভিন্ন আসনে দাঁড়িয়ে শতভাগ বিজয়ের এমন নজির আর নেই।

টি আসনে জয়ের হ্যাটট্রিক এক সময় একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৫টি আসনে প্রার্থী হতে পারতেন। বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬ (জুন) ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ৫টি করে মোট ১৫টি আসনে প্রার্থী হয়ে প্রতিটিতেই বিপুল ভোটে জয় পান। অর্থাৎ তিনি ৫ আসনে জয়ের হ্যাটট্রিক করেন। পরে আইন পরিবর্তনের পর ২০০৮ সালে তিনি ৩টি আসনে দাঁড়িয়ে ৩টিতেই বিজয়ী হন।

৬টি ভিন্ন জেলা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত তিনি দেশের ৬টি ভিন্ন জেলা, বগুড়া, ফেনী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর ও খুলনা, থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার এমন সর্বজনীন জনপ্রিয়তার রেকর্ড আর কোনো নেতার নেই।

ফার্স্ট লেডিবেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র নারী, যিনি একাধারে ফার্স্ট লেডি এবং পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনা করেছেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে তিনি ছিলেন ফার্স্ট লেডি, পরে নিজ যোগ্যতায় দেশের সরকারপ্রধান হন।

সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন। ১৯৭৫ সালের পর দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা চালু ছিল। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি দ্বাদশ সংশোধনী পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশে পুনরায় সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। একচ্ছত্র ক্ষমতার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি সংসদের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেন।

নারী শিক্ষা। তার সরকারের সময় দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু হয়। এই সিদ্ধান্ত নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণে বড় ভূমিকা রাখে এবং আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশংসিত হয়।

মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা২০০১ সালে তার সরকার প্রথমবারের মতো মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে। এর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

পলিথিন নিষিদ্ধকারী২০০২ সালে তার সরকার পরিবেশ রক্ষায় পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। সে সময় এটি ছিল একটি সাহসী ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত সিদ্ধান্ত।

সার্কের প্রথম চেয়ারপারসন১৯৯২ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়া সার্কের প্রথম নারী চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা দক্ষিণ এশিয়ায় নারী নেতৃত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত স্বল্পস্থায়ী সংসদে ত্রয়োদশ সংশোধনী পাস করে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সংবিধানের অংশ করেন। দাবি মেনে নিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের এমন দৃষ্টান্ত রাজনীতিতে বিরল। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং বহু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সেই দীর্ঘ, সংগ্রামী ও অপরাজেয় রাজনৈতিক পথচলার অবসান ঘটল।

সংস্কার/ইএমই

সম্পর্কিত খবর

চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী : ১৭ সমঝোতা স্মারক

দীর্ঘ কূটনৈতিক নীরবতা ও ভূ-রাজনৈতিক জটিলতার মধ্যে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে চীন থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের প্রথম চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। সফরের শেষ দিনে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং

চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক : দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার উদ্যোগ

চীনের চার দিনের সরকারি সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এর আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত বীর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে চীনের বিপ্লবী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। এ

বাংলাদেশ-চীনের ১৩ সমঝোতা স্মারক : গণমাধ্যমে ব্যাপক সহযোগিতা

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে দুই দেশের মধ্যে এসব সমঝোতা স্মারক সই হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে। একই দিন বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের

৬ জেলায় সেনা কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ছয় জেলায় সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কমিশনড কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার। সোমবার (২২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের