অনুসরন করুন :
আল-কুরআন

আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯

আল কুরআন (আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯) ৩০. এগুলো (হজ্বের বিধান)। এ ছাড়া যে, আল্লাহ এবং পবিত্র (স্থান ও অনুষ্ঠান) সমূহের প্রতি সম্মান দেখাবে, তার প্রভ...

বিস্তারিত
আল-হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন

সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী রা. আব্বাদ ইবনু তামীম তৎপিতৃব্য আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...

বিস্তারিত
সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো

নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো। নিঃসন্দেহে এই সরকার একটি বিপ্লবোত্তর সরক...

বিস্তারিত

নতুন অর্থনৈতিক করিডোরে বাংলাদেশ : চীন সফর ও ভারতের উদ্বেগ

ছবি : সংগৃহীত

মোবায়েদুর রহমান

(সংস্কার প্রকাশ, ৭ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার) একদিকে পাকিস্তান-চীন অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি), অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর (বিএমসি)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনব্যাপী চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৭টি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণ।

সফরের শেষ দিনে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত সরকারি বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের মধ্যে এ প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্রের দাবি, পরবর্তী একান্ত বৈঠকেও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ব্যক্তিগতভাবে এ করিডোরের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ যদি এই প্রস্তাবিত করিডোরে সম্মতি না দেয়, তাহলে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ চীনের অন্যান্য কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিলম্বিত বা অনিশ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চীন সফরে দুই দেশ তাদের বিদ্যমান কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা পর্যায়ে নিয়মিত সংলাপের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে।

চীন জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধে তিস্তা প্রকল্পে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ও কারিগরি সহায়তায় আগ্রহ দেখানো হলেও পূর্ণ অর্থায়নের চূড়ান্ত ঘোষণা এখনো আসেনি। এছাড়া মংলা বন্দরের সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও আশপাশের এলাকায় শিল্প ও উৎপাদন খাতে চীনা বিনিয়োগের ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

স্বাক্ষরিত এমওইউগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোরকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, করিডোরটি চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং থেকে শুরু হয়ে মিয়ানমারের মান্দালয় পর্যন্ত যাবে। এরপর এটি দুটি শাখায় বিভক্ত হবেএকটি ইয়াঙ্গুনের দিকে এবং অন্যটি রাখাইন রাজ্যের গভীর সমুদ্রবন্দর কিয়াউকফিউ (Kyaukphyu) অভিমুখে। রাখাইনমুখী অংশটি পরে বাংলাদেশে প্রবেশ করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এর মাধ্যমে চীন স্থলপথে বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের বন্দরগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ পেতে পারে।

এই ধারণা অবশ্য নতুন নয়। ১৯৯০-এর দশকে চীন বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও চীনকে নিয়ে চার দেশভিত্তিক একটি করিডোরের প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে এটি বিসিআইএম (বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার) প্রকল্প নামে পরিচিত হয়। তবে ভারত এটিকে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আপত্তি জানায়। ভারতের অনাগ্রহ ও বিরোধিতার কারণে ২০১৯ সালে প্রকল্পটি কার্যত স্থগিত হয়ে যায়।

২০১৬ সালে শেখ হাসিনার সরকার আমলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশ সফর করেন এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সে সময় বাংলাদেশ বিআরআইয়ে যোগ দিলেও ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে করিডোরের বিষয়টি আর এগোয়নি। বর্তমানে নতুন প্রস্তাবিত করিডোরটির সম্ভাব্য দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার বলে জানা গেছে।

গত ২৭ জুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত অবস্থান নেয়নি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রস্তাবটি বর্তমানে বিবেচনা করছে এবং এ বিষয়ে এখনো কোনো অবস্থান নেয়নি

বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে হ্যাঁ বা নাকোনোটিই না বললেও ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এনডিটিভির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পশ্চিমে পাকিস্তান-চীন অর্থনৈতিক করিডোরের মাধ্যমে চীন যেমন আরব সাগরে পৌঁছেছে, তেমনি বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর বাস্তবায়িত হলে পূর্ব দিক দিয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের সুযোগ পাবে। ভারতের আপত্তির কারণ, পাকিস্তান-চীন করিডোর পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চল অতিক্রম করেছে। একইভাবে নতুন করিডোর চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের মাধ্যমে চীনের সামুদ্রিক প্রবেশাধিকার আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে তারা মনে করছে।

চীন সফরে স্বাক্ষরিত অন্যান্য সমঝোতার মধ্যেও ভারতের উদ্বেগের বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা অন্যতম। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, এ প্রকল্পে অন্য কোনো দেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই, কারণ এটি বাংলাদেশের অনুরোধেই নেওয়া হয়েছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের উত্তরাঞ্চল শুষ্ক মৌসুমে মরুকরণ এবং বর্ষায় বন্যার ক্ষতি থেকে অনেকটাই সুরক্ষা পাবে। উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃষিতে সেচের সুবিধা, সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং তিস্তার দুই তীরে নতুন জনপদ ও নগরায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মার্কিন দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানও তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলাদেশ কি চীনের দিকে আরও ঝুঁকছে এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হবে? তার মতে, বাংলাদেশ ও চীন আগে থেকেই কৌশলগত অংশীদার হলেও সাম্প্রতিক যৌথ ঘোষণায় দুই দেশ নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায় গড়ে তোলার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।

এছাড়া দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ২+২ সংলাপ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা সাধারণত ঘনিষ্ঠ অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে দেখা যায়। সমঝোতা স্মারকের একটি অংশে বাংলাদেশের স্কুলগুলোতে ম্যান্ডারিন ভাষা শিক্ষার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা চীনের সফট পাওয়ার সম্প্রসারণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্রিকস ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় (এসসিও) বাংলাদেশের যোগদানের প্রচেষ্টায় চীনের সমর্থনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের চীন সফর এবং পরবর্তী পদক্ষেপ ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সফরে স্বাক্ষরিত সমঝোতাগুলো ভারতের জন্য হতাশার কারণ হতে পারে।

ইউনূস সরকারের সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছিল বলে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে নির্বাচিত সরকার গঠনের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকবার্তা পাঠান এবং তা পৌঁছে দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করকে ঢাকায় পাঠান। তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সরকার গঠনের পর নরেন্দ্র মোদি প্রথম দিকেই তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে বিশেষ বার্তা নিয়ে ঢাকায় পাঠান। সেই বার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে সপরিবারে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পুনর্গঠনের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সময় এখনো আসেনি। বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। তাই আগামী কয়েক মাসের কূটনৈতিক পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণের পরই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশনা সম্পর্কে নিশ্চিত মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। (ই-মেইল: journalist15@gmail.com, দৈনিক ইনকিলাব এর সৌজন্যে)

সম্পর্কিত খবর

আমাদের সমাজের প্রতিটি মা-বাবা যদি বুঝতো

আমিতো শুধু কোন নামাজীকে বিয়ে করতে চাইনি! আমিতো একজন সাহাবাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম! আপুর লিখাটা যদি মডারেট মা বাবাদের ধরে ধরে পড়াতে পারতাম!! আমি নুজাইরাহ। আজ আমার বিয়ে।